×
অনুসন্ধান
EveryBengaliStudent.com
জীবন এবং ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নগুলি
 আবিস্কার করার জন্য নিরাপদ স্থান
desiring God
ঈশ্বরের অস্তিত্ব

শ্রেষ্ঠ ঈশ্বরের অনুসন্ধান

এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের ঈশ্বর আছে- যে ঈশ্বর বাইবেলে প্রকাশিত হয়েছেন তিনিই কী শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর?

WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More PDF

আমাদের মধ্যে অনেকের মনে ‘‘শ্রেষ্ঠ’’ ঈশ্বরের বিষয়টি ঘুরপাক খায়। হয়ত আমরা মনে করি যে ঈশ্বর ক্ষমতাবান, আমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম, আমাদেরকে যত্ন নিতে পারেন। বাইবেল আমাদেরকে ঈশ্বর সম্বন্ধে যা বলে সেগুলো সম্বন্ধে গুণাবলীসমূহ নিচে তুলে ধরা হল:

#১: তিনি আমাদের চেয়ে মহান

-মানবজাতি সাম্প্রতিককালে দারুণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকে দীর্ঘসময় বেঁচে থাকতে পারি, অন্যদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারি, এবং কয়েকে সেকেন্ডের মধ্যে সাহায্যপূর্ণ তথ্যসমূহ জানতে পারি।

কিন্তু যেভাবেই আমারা আমাদের উন্নতিসাধন করি না কেন, আমরা অন্যের কাছে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছি। প্রত্যেক দশকেই আমরা সহিংস অপরাধ, বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি এবং কিশোরদর আত্নহত্যার বিষয়গুলো দেখি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ সম্প্রদায়িক বিদ্বষের জন্য মারা যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধা নিবারণের অভাবে আছে।

এই তালিকা শেষ হবে না। কেউ বলে যে আমরা নিজেরাই ঈশ্বর। আমরা আমাদের নিজেদের নিয়তির নিজেই প্রভু। মানবতা যদি ঈশ্বর হয়, তাহলে এটা বোঝা যাচ্ছে যে আমরা এর মাধ্যমে ভাল কোন কাজ করতে পারছি না। সুতরাং, মানবতার উর্ধ্বে যদি ঈশ্বর থাকেন তাহলে কি সেটাই সবচাইতে ভাল হয় না, যে ঈশ্বর আমাদেরকে সেখানে নিয়ে যেতে পারেন যেখানে আমরা নিজে থেকে যেতে পারি না?

বাইবেলে যে ঈশ্বরের কথা বলা হয়েছে তিনিই সেই ঈশ্বর। তিনি নিজেকে দাবি করেন যে তিনি মহাবিশ্বের স্রষ্টা, ব্রহ্মান্ডের অতীত, সর্বজ্ঞ, সবচেয়ে ক্ষমতাবান অস্তিত্ব যিনি সব সময়ই ছিলেন এবং যিনি সকল কিছুর রক্ষাকর্তা। তিনি বলেন,‘‘ আমিই পৃথিবী তৈরী করে তার উপর মানুষকে সৃষ্টি করেছি; আমি নিজের হাতে আকাশকে বিছিয়ে দিয়েছি আর আকাশের সূর্য, চাঁদ ও তারাগুলোকে স্থাপন করেছি।’’ ‘‘তোমরা অনেক অনেক দিন আগেকার বিষয় স্মরণ কর। আমিই ঈশ্বর, অন্য আর কেউ নয়; আমিই ঈশ্বর, আমার মত আর কেউ নেই।’’ “আমিই সেই আল্ফা এবং ওমিগা যিনি আছেন, যিনি ছিলেন ও যিনি আসছেন। আমিই সর্বশক্তিমান।”

#২: তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানা সম্ভব

-আজকালকার জনপ্রিয় একটি বিষয় এই যে, ঈশ্বরকে এমন একধরণের শক্তি প্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা সমস্ত কিছুতেই বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, ঈশ্বরের শক্তির দ্বারা মুহূর্তের পর মুহূর্ত ধরে সকল কিছুর অস্তিত্ব থাকে এবং রক্ষা করা হয়, তাহলে একাধিক ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বর যদি অভিভাবক, সহোদর, বা বন্ধু হন তাহলে কি ভাল হত না? এমন কেউ যার সাথে আপনি কথা বলতে পারবেন, আপনার সমস্যাগুলোর কথা বলতে পারবেন, যার কাছ থেকে পরিচালনা পাবেন, যার সাথে জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন। একজন ঈশ্বর যদি ব্যক্তিগত সম্পর্কহীন, অজানা, দূরের কেউ হয়ে থাকেন তাহলে সেই ঈশ্বরের বিশেষত্ব কি?

ঈশ্বরের মহিমা এবং ‘‘অনন্যতা’’ থাকা সত্ত্বেও, তিনি নিজেকে বাইবেলের মধ্যে আমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন এবং তিনি চান যেন আমরা তাঁকে জানতে পারি। যদিও ঈশ্বর অদৃশ্য, তবুও আমরা তাঁর সাথে কথা বলতে পারি, তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারি এবং তাঁর কথা শুনতে পারি, আর তিনি আমাদেরকে উত্তর দেবেন এবং জীবনে পরিচালনা দান করবেন। তিনি প্রায়ই আমাদেরকে সেসব প্রশ্নের উত্তর এবং পরিচালনা, তাঁর বাক্য, বাইবেলের মধ্যে দিয়ে থাকেন, যেটাকে আমরা বলতে পারি আমাদের প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসার চিঠি।

একজন ব্যক্তির তাঁর পরিবারের কোন ঘনিষ্ঠ সদস্যের সাথে যেমন সম্পর্ক থাকে সেই একই সম্পর্ক ঈশ্বরের সাথে রাখতে পারে। এমনকি যারা তাঁকে জানে, তাদেরকে তিনি সন্তান, নববধূ, বন্ধু বলে ডাকেন। তাই বাইবেলের ঈশ্বর ব্যক্তিগত সম্পর্কহীন নয়। তিনি রাগান্বিত হন এবং দু:খ পান, করুণা করেন, দয়া দেখান এবং ক্ষমা করেন, এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে আবেগিক। তিনি খুবই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, যার ব্যক্তিত্ব এবং উদ্ভাবনশীলতা রয়েছে। আমরা তাঁর সম্পর্কে নিছক সত্যের চেয়ে অনেক বেশি কিছু জানতে পারি, আসলে আমরা তাঁকে আমাদের সবচেয়ে ভাল বন্ধুর মত ঘনিষ্ঠভাবে জানতে পারি। ‘‘তোমাকে, অর্থাৎ একমাত্র সত্য ঈশ্বরকে আর তুমি যাঁকে পাঠিয়েছ সেই যীশু খ্রীষ্টকে জানতে পারাই অনন্ত জীবন।’

#৩: তিনি মানুষের অভিজ্ঞতার আলোকে বুঝতে পারেন

-অনেকেই মনে করেন যে ঈশ্বর অনেক সুদূর এবং দূরবর্তী বলে মনে করেন, যেমন তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং তারপরে এটিকে নিজের কাজ করার জন্য একা ছেড়ে দিয়েছেন। এমন ঈশ্বর থাকা কি ভাল নয় যিনি মহাবিশ্বের সাথে যুক্ত আছেন এবং বিশেষ করে, এই পৃথিবীতে কি হচ্ছে তা দেখছেন? আর মানুষ হিসাবে আমরা যে বিভিন্ন রকম সমস্যা, দায়িত্ব এবং চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হই সেগুলোর কি হবে? এমন ঈশ্বর থাকাটা কি ভাল নয় যিনি এই সকল বিষয়গুলো বুঝবেন, এমন একজন ঈশ্বর যিনি কঠোর পৃথিবীতে জীবনকে সহ্য করার জন্য তিনি তার অস্তিত্ব থাকতে দিয়েছেন?

বাইবেলের ঈশ্বর জানেন যে আমাদের মধ্যে একজন হওয়ার মানে কি। যীশু খ্রীষ্ট শুধুমাত্র ঈশ্বরের পুত্রই ছিলেন না, তিনি নিজেই ঈশ্বর ছিলেন যিনি মানুষরূপে এসেছিলেন এবং মানুষের সহজাত প্রবণতাসম্পন্ন ছিলেন। ‘‘প্রথমেই বাক্য ছিলেন, বাক্য ঈশ্বরের সংগে ছিলেন এবং বাক্য নিজেই ঈশ্বর ছিলেন।আর প্রথমেই তিনি ঈশ্বরের সংগে ছিলেন।’’

ঈশ্বরের পুত্র সম্বন্ধে বাইবেল বলে,‘‘ ঈশ্বরের সব গুণ সেই পুত্রের মধ্যেই রয়েছে; পুত্রই ঈশ্বরের পূর্ণ ছবি।’’ ‘‘এই পুত্রই হলেন অদৃশ্য ঈশ্বরের হুবহু প্রকাশ।’’ তাঁর নাম হবে আশ্চর্য পরামর্শদাতা, শক্তিশালী ঈশ্বর, চিরস্থায়ী পিতা’’ যিনি ,‘‘মানুষের মত করে তৈরী হয়েছিলেন এবং ‘‘চেহারায় মানুষ হয়েছিলেন।’’ তাঁর মধ্যে ‘‘ঈশ্বরের সমস্ত পূর্ণতা খ্রীষ্টের মধ্যে দেহ নিয়ে বাস করছে’’১০ আর ‘‘আকাশে ও পৃথিবীতে, যা দেখা যায় আর যা দেখা যায় না, সব কিছু তাঁর দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে।’’১১

যীশু নিজের বিষয়ে বলেছেন,‘‘ যে আমাকে দেখেছে সে পিতাকেও দেখেছে।’’১২ যে আমাকে দেখে, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সে তাঁকেই দেখে ‘’১৩ আর,‘‘ আমি আর পিতা এক।’’১৪

যদিও তিনি সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বর ছিলেন, কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি সম্পূর্ণভাবে মানুষ ছিলেন। তাঁর ক্ষুধা পেত, তিনি ঘুমাতেন, তিনি কেঁদেছেন, খাবার খেতেন। তিনি আমাদের মত সব ধরনের সমস্যাগুলো সহ্য করেছেন এবং পরবর্তীতেও কিছু করেছেন। সুতরাং, বাইবেল বলে যে তিনি এমন কেউ নন যিনি আমাদের দুর্বলতার জন্য আমাদের সংগে ব্যথা পান না।১৫ তাঁকে ‘‘সব দিক থেকেই পাপের পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন অথচ পাপ করেন নি।’’১৫

আমরা সবাই ভেড়ার মত করে বিপথে গিয়েছি; আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের পথের দিকে ফিরেছি। সদাপ্রভু আমাদের সকলের অন্যায় [পাপ] তাঁর উপর চাপিয়েছেন।’’২১

#৪: তিনি সত্যিই আমাদের যত্ন নেন

-আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই গ্রহণযোগ্য হতে চায় এবং ভালবাসা পেতে চায়। আমরা চাই যেন লোকেরা আমাদের যত্ন নিক, আর এটা শুধুমাত্র কথার দ্বারা নয়। আমরা তাদের যত্ন এবং আমাদের বিষয়ে চিন্তার প্রকাশ তাদের কাজের মাধ্যমে দেখতে চাই। ঈশ্বরের ক্ষেত্রেও কি একই বিষয় সত্য নয়? এর মানে হল, যে ঈশ্বর সত্যিকারভাবে আমাদের যত্ন নেন এবং তারপর আমাদের কাছে সেই ভালবাসার বাস্তব প্রমাণ দেন, সেই ঈশ্বর কি আদর্শ ঈশ্বর নন?

বাইবেলর ঈশ্বর সত্যিই যত্ন নেন। তিনি তাঁর বাক্যে এমনটাই বলেছেন। এমনকি, বাইবেল আমাদের বলে যে, ‘‘ঈশ্বর নিজেই ভালবাসা।’’১৬ কিন্তু বাক্য শুধুমাত্র আমাদের কাজের মাধ্যমে যত্ন এবং আমাদের চিন্তার বিষয়গুলোর জন্যই নয়। এখানেই বাইবেলের ঈশ্বর এতটা অনন্য এবং এতটা অসাধারণ। তিনি আমাদেরকে কতটা যত্ন নেন তা তিনি দেখিয়েছেন…

‘‘আমাদের প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসা এইভাবে প্রকাশিত হয়েছে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে এই জগতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন যেন আমরা তাঁর মধ্য দিয়ে জীবন পাই।আমরা যে ঈশ্বরকে ভালবেসেছিলাম তা নয়, কিন্তু তিনি আমাদের ভালবেসে তাঁর পুত্রকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, যেন পুত্র তাঁর নিজের জীবন-উৎসর্গের দ্বারা আমাদের পাপ দূর করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করেন। এটাই হল ভালবাসা।’’১৭ ‘‘খ্রীষ্ট আমাদের জন্য নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন, তাই ভালবাসা কি তা আমরা জানতে পেরেছি। তাহলে ভাইদের জন্য নিজের প্রাণ দেওয়া আমাদেরও উচিত।’’১৮

বাইবেলের ঈশ্বর নিজেকে নিখুঁত এবং পবিত্র অস্তিত্ব বলে দাবি করেন। ‘‘ঈশ্বর আলো; তাঁর মধ্যে অন্ধকার বলে কিছুই নেই।’’১৯ তিনি এমন সম্পর্ক চান যে সম্পর্ক স্বচ্ছ এবং বিশুদ্ধ। তাই ঈশ্বর তাঁর নিজ পুত্রকে আমাদের জন্য পাঠালেন যাতে আমরা ঈশ্বরের সামনে পরিষ্কৃত হতে পারি। যীশু নৈতিকভাবে নিখুঁত জীবনযাপন করেছেন এবং তারপর আমারা যে সকল খারাপ কথা বলেছি, যে খারাপ কাজ করেছি, বা খারাপ চিন্তা করেছি (যেগুলোকে ‘পাপ’ বলা হয়) সেগুলোর বেতনস্বরূপ তাকে পেটানো হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, এবং ক্রুশে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। এক অর্থে বলা যায়, তিনি আমাদের পরিবর্তে আমাদের হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন—‘‘ ঈশ্বর আমাদের পাপ তাঁর উপর তুলে দিয়ে তাঁকেই পাপের জায়গায় দাঁড় করালেন, যেন খ্রীষ্টের সংগে যুক্ত থাকবার দরুন ঈশ্বরের পবিত্রতা আমাদের পবিত্রতা হয়।’’২০

আমরা সবাই ভেড়ার মত করে বিপথে গিয়েছি; আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের পথের দিকে ফিরেছি। সদাপ্রভু আমাদের সকলের অন্যায় [পাপ] তাঁর উপর চাপিয়েছেন।’’২১

ঈশ্বর আমাদেরকে এতটাই যত্ন নেন যে তিনি আমাদের পাপের জন্য শাস্তিভোগ করার জন্য আমাদের পরিবর্তে তাঁর নিজের পুত্রকে পাঠালেন। ঈশ্বর আমাদেরকে এতটাই জানতে চান। তিনি প্রয়োজনীয় সকল কিছু করতেই নিবেদিত ছিলেন, আমাদের পাপের বিষয়টির নিতান্তই প্রয়োজনীয় ছিল। এখন আমরা সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা পেতে পারি এবং ঈশ্বরের সাথে খোলাখুলি একটি সম্পর্ক শুরু করতে পারি।

#৫: তাঁর সকল কিছুর ওপর সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ আছে

-বিশ্বের সকল ভয়ংকর জিনিসগুলো এটা প্রমাণ করে যে, একজন ভাল, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কোন অস্তিত্বই নেই, তাই না? এমনটি একজন নিখুঁত ঈশ্বর হয়ত খারাপ বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও মেনে নেন, উচ্চতর কোন পরিকল্পনা সাধনের উদ্দেশ্যে। ঈশ্বর সব সময় কি হবে সেটা জানেন এবং এতকিছু শুধুমাত্র মেনে নেন তাঁর মহান পরিকল্পনার জন্য।

বাইবেলের ঈশ্বর এমনই ঈশ্বর। তিনি দাবি করেন যে এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সেগুলো কোনকিছুই তাঁর অনুমতি ছাড়া হয় না। তিনি সকল কিছুর উপরেই সার্বভৌম। ‘‘যদি সদাপ্রভু আদেশ না দেন তবে কে মুখে বলে কিছু ঘটাতে পারে ‘’২২ ‘‘আমি শেষ কালের বিষয় আগেই বলি আর যা এখনও হয় নি তা আগেই জানাই। আমি বলেছি যে, আমার উদ্দেশ্য স্থির থাকবে; আমার সমস্ত ইচ্ছা আমি পূরণ করব।’’২৩ ‘‘কিন্তু সদাপ্রভুর পরিকল্পনা চিরকাল টিকে থাকে; তাঁর মন যুগ যুগ ধরেই স্থির থাকে।’’২৪ ‘‘মানুষের মনে অনেক পরিকল্পনা থাকে, কিন্তু সদাপ্রভু যা ঠিক করেছেন তা-ই হবে ‘’২৫

তবে এর মানে এই নয় যে যা কিছু ঘটে সেগুলোর সবকিছুই ঈশ্বরের পছন্দসই। উদাহরণস্বরূপ, যীশু তাঁর শিষ্যদেরকে প্রার্থনা করার জন্য বললেন, সেই প্রার্থনার অন্যতম একটি মূল বিষয় হল: ‘‘তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে তেমনি পৃথিবীতেও পূর্ণ হোক।’’২৬ ঈশ্বরের সৎ ইচ্ছা সবসময়ই স্বর্গে পূর্ণ করা হয়েছে, কিন্তু পৃথিবীতে পূর্ণ করা হয় নি। যখন ঈশ্বর সকল কিছুর ওপর সার্বভৌম, তিনি নিজেও পৃথিবীর সকল কিছু পছন্দ করেন না। কিন্তু কোন কারণবশত, তিনি সেই সব বিষয়গুলোকে অনুমতি দেন যেগুলো (তাঁর অনুমতিসূচক ইচ্ছার অধীন), হয়ত মানুষ হিসেবে আমাদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের অংশ।

কিন্তু বাইবেলের ঈশ্বরের একটি পরিকল্পনা আছে, আর তিনি ‘‘যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁর অন্তরের উদ্দেশ্য পুরোপরিভাবে ব্যক্ত না করছেন’’ ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফিরে যাবেন না।’২৭ তাহরে পরিকল্পনাটি কি? ঈশ্বরের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল মানুষ বর্তমানে যেমন জীবন-যাপন করছে সেটার থেকে সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন একটি পরিবেশে তিনি মানুষদেরকে নিয়ে যেতে চান। সেই জগত সম্পর্কে ঈশ্বর বলেছেন,‘‘ এখন মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের থাকবার জায়গা হয়েছে। তিনি মানুষের সংগেই থাকবেন এবং তারা তাঁরই লোক হবে। তিনি নিজেই মানুষের সংগে থাকবেন এবং তাদের ঈশ্বর হবেন।তিনি তাদের চোখের জল মুছে দেবেন। মৃত্যু আর হবে না; দুঃখ, কান্না ও ব্যথা আর থাকবে না, কারণ আগেকার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।” যিনি সেই সিংহাসনে বসে ছিলেন তিনি বললেন, “দেখ, আমি সব কিছুই নতুন করে তৈরী করছি।”২৮

#৬: তিনি জীবনের অর্থ এবং উদ্দশ্য দান করেন

-যদি আপনি কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা প্রকল্পের কথা মনে করেন যেটা আপনি আগে সম্পন্ন করেছেন, তাহলে আপনি হয়ত আগের কাজটি শেষ করার পর সেই উদ্দেশ্যটি স্মরণ করতে পারেন। আপনি কি আপনার সম্পূর্ণ জীবনে এটাই চেয়েছিলেন? এমন কোন কিছু? এমন কোন ঈশ্বর কি আছেন যিনি আপনার জীবনে উদ্দেশ্য দান করেছেন এবং তিনি আপনাকে সেই উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করবেন?

হ্যাঁ। বাইবেলের ঈশ্বর পারেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি আমাদের জীবন অর্থপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ করবেন। তাঁর সাথে সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা ‘‘সৎ কাজ করি যেটা ঈশ্বর আমাদের জন্য আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন।’’২৯ আমরা অন্যদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি। আমরা তাঁর মহাপরিকল্পনার অংশ হতে পারি।

বাইবেলের ঈশ্বর এও বলেন যে, যখন আমরা তাঁর সাথে চলামান সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যাব, তখন তিনি আমাদের ধাপগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবেন যাতে আমরা তাঁকে সন্তুষ্ট করে এমন কাজ নিজেদের সবচেয়ে বেশি সেরাটা দিয়ে করতে পারি। ‘‘তোমার সমস্ত চলবার পথে তাঁকে সামনে রাখ; তিনিই তোমার সব পথ সোজা করে দেবেন ‘’৩০ এর মানে এই নয় যে তখন আমাদের জীবনটা বিষ্ময়করভাবে সুন্দর হয়ে যাবে। তখনও আমাদের অসুস্থতা, সমস্যাপূর্ণ জীবন, এবং ব্যক্তিগত ব্যর্থতা থাকবে। জীবনটা কখনও নিখুঁত হয় না, কিন্তু এটা আরও সমৃদ্ধতা লাভ করে। ঈশ্বরকে জানার ফল হল ‘‘-ভালবাসা, আনন্দ, শান্তি, সহ্যগুণ, দয়ার স্বভাব, ভাল স্বভাব, বিশ্বস্ততা,নম্রতা ও নিজেকে দমন।’’৩১

#৭: তিনি সত্যিকারের পূর্ণতা দিতে চান

-আমাদের প্রত্যেকেই ভালবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতার মত পূর্ণতা পাবার অনুসন্ধান করে থাকি। আমাদের মধ্যে কোন কিছুর প্রতি তৃষ্ণা রয়েছে যা পাবার জন্য আমাদের আকুল আকাঙ্খা রয়েছে। কিন্তু এই তৃষ্ণা পূরণের জন্য—যদিও আমরা চেষ্টা করে থাকি—কিন্তু এটা অর্থ, পেশা, রোম্যান্স, বা এমনকি মজা এর দ্বারা তৃপ্তি আসে না। অতএব, এমন ঈশ্বর থাকলে কি ভাল হতো না, যিনি এই ‘‘তৃষ্ণা’’ মেটাবেন, এমন একজন ঈশ্বর যার উপস্থিতি জীবনে অবিরত এক তৃপ্তি নিয়ে আসে?

বাইবেলের ঈশ্বর জীবনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উদ্দেশ্য কেন্দ্রীকতা দিতে চান। যীশু বলেছেন, ‘‘আমি এসেছি যেন তারা জীবন পায়, আর সেই জীবন যেন পরিপূর্ণ হয়।’’৩২ তিনি আরও বলেছেন,‘‘ আমিই সেই জীবন-রুটি। যে আমার কাছে আসে তার কখনও খিদে পাবে না। যে আমার উপর বিশ্বাস করে তার আর কখনও পিপাসাও পাবে না।’’৩৩ তাই, বাইবেলের ঈশ্বর আমাদের ভেতরের সেই তৃষ্ণা পূরণ করবেন যেটা আর কোন কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। (আর তিনি এমন উপায়ে সেটা করবেন যেটা সেই উপায়ে কারাটাই উত্তম হবে!)

আদর্শ ঈশ্বরের আকঙ্খা

বাইবেল অনুসারে , শুধুমাত্র একজন সত্যিকারের ঈশ্বর আছেন, যিনি সকল সৃষ্টির একমাত্র স্রষ্টা। কিন্তু এই ঈশ্বরই আদর্শ একজন ঈশ্বর। আমরা এই অস্তিত্বের সাথে আরেকজন ঈশ্বরকে চাইতে পারি না, কিন্তু যদি আমরা চাই, তাহলে কেন তা চাই? সত্যিকারের ঈশ্বর তো ইতোমধ্যেই নিজের সর্বোচ্চ ঈশ্বরত্ত্ব নিয়েই আছেন।

এই প্রতিবেদনটিতে শুধু বাইবেলের ঈশ্বর কেমন সেটার অল্প পরিমাণ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এই বিষয়টিকে আরও গভীরে তদন্ত করে দেখতে চান, তাহলে আপনি বাইবেলের ‘‘যোহন’’ এই অংশটুকু দেখতে পারেন। যদি আপনি সচেতন হন, আর যদি বাইবেলের ঈশ্বরই সত্যিকারের ঈশ্বর হন, তাহলে কি তিনি নিজেকে আপনার কাছে প্রকাশ করবেন না? তিনি বলেন,‘‘ যারা মনে-প্রাণে আমার খোঁজ করে তারা আমাকে পায়।’’৩৪ ‘‘চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ কর, পাবে; দরজায় ঘা দাও, তোমাদের জন্য খোলা হবে।’’৩৫

‘‘সত্যিকারের ঈশ্বর ইতোমধ্যেই নিজের সর্বোচ্চ ঈশ্বরত্ত্ব নিয়েই আছেন।’’

আপনি কি এটা ভাবছেন যে কীভাবে আপনি আদর্শ ঈশ্বরকে জানতে পারবেন? মূলত, ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক শুরু করাটা অনেকটা বিয়ের শুরুর দিকের সম্পর্কের মত। বিয়ের এই সম্পর্কে আসার জন্য স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একইভাবে, ঈশ্বরকেও আপনার সৎভাবে বলতে হবে, ‘‘আমিও করতে চাই’’।

যীশু খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনি মৃত্যুর তিন দিন পর পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং তিনি আজও জীবিত আছেন। এখন যদি আমরা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা চাই তাহলে তিনি আমাদেরকে নতুন এক জীবন দেবেন, তিনি বলেছেন,‘‘ আমার পিতার ইচ্ছা এই-আপনাদের মধ্যে যাঁরা পুত্রকে দেখে তাঁর উপর বিশ্বাস করেন তাঁরা যেন অনন্ত জীবন পান। আর আমিই তাঁদের শেষ দিনে জীবিত করে তুলব।”৩৬

ঈশ্বর কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ত্ব করেন না। সকল মানুষই তাঁর প্রতিমূর্তিতে তৈরী। সুতরাং, তাঁর অনন্তকালীন পরিবার হিসেবে এভাবে বিবরণ দেওয়া হয়,‘‘ প্রত্যেক জাতি, বংশ, দেশ ও ভাষার মধ্য থেকে অনেক লোকের ভিড়’’৩৭ আর আপনার জীবনের কোন পাপ তাঁর সাথে আপনার সম্পর্কের মধ্যে বাধা হতে পারবে না। তিনি আমাদের পাপের ভার ক্রুশে নিয়েছেন, যেখানে যীশু ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন। এখন এটা আপনার সিদ্ধান্ত যে যীশু আপনার পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন, আপনি আগে যে পাপই করে থাকুন না কেন সেগুলো আর ধরা হবে না।

একবার যদি আপনি ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক শুরু করেন এটা অনন্তকালীন স্থায়ী হবে। কিন্তু এটার মানে এও যে আজ তাঁর সাথে আপনার যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সেটার প্রতিফলন আপনি এই জীবনেই দেখতে পাবেন, এটি এমন একটি সম্পর্ক যেটা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অন্য সম্পর্কগুলোরে মতই, এটারও উত্থান এবং পতন, উঁচু এবং নিচু, আনন্দ এবং বেদনা থাকবে। কিন্তু আপনি এমন একজন ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কে আবদ্ধ থাকবেন যিনি আপনাকে মহৎ একটি উদ্দেশ্যের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (যাতে আপনি তাঁকে জানতে পারেন।)

আপনার কি মনে হচ্ছে ঈশ্বর আপনার মনে টানের সৃষ্টি করছেন? যীশু বলেছেন, ‘‘ দেখ, আমি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ঘা দিচ্ছি। কেউ যদি আমার গলার আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেয় তবে আমি ভিতরে তার কাছে যাব’’৩৮ যদি আপনি ঈশ্বরকে আপনার জীবনে আসার জন্য এখনই অনুরোধ করতে চান, তাহলে আপনার সাহায্যের জন্য পরামর্শমূলক একটি প্রার্থনা এখানে দেওয়া হল (যা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এই কথাগুলো একদম নিখুঁত নয় তবুও এতগুলো আপনার হৃদয়ের ভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করবে):

হে প্রভু, আমি স্বীকার করছি যে আমি একজন পাপী। ক্রুশে যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে আমার সকল পাপ নিজের কাঁধে তুলে নেয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি তোমার ক্ষমা পেতে চাই এবং তোমার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। আমি তোমাকে আমার জীবনের ত্রাণকর্তা এবং প্রভু হিসেবে আসার জন্য অনুরোধ করছি, এবং আজ থেকে আমার ঈশ্বর হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই, এবং তুমি আমাকে যেমন মানুষ হিসেবে দেখতে চাও সেভাবে আমাকে তৈরী কর।

 আমি এই মাত্রই যীশুকে আমার হৃদয়ে গ্রহণ করেছি (কিছু সাহায্যকারী অনুসরণকারী তথ্য)…
 আমি যীশুকে আমার অন্তরে গ্রহণ করতে চাই, দয়া করে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিন…
 আমার একটি প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে…

পাদটীকাসমূহ: (১) যিশাইয় ৪৫:১২ (২) যিশাইয় ৪৬:৯ (৩) প্রকাশিত বাক্য ১:৮ (৪)যোহন ১৭:৩ (৫) যোহন ১:১,১৪ (৬) ইব্রীয় ১:৩ (৭) কলসীয় ১:১৫ (৮) যিশাইয় ৯:৬ (৯) ফিলিপীয় ২:৮ (১০) কলসীয় ২:৯ (১১) কলসীয় ১:১৬ (১২) যোহন ১৪:৯ (১৩) যোহন ১২:৪৫ (১৪) যোহন ১০:৩০ (১৫) ইব্রীয় ৪:১৫ (১৬) ১ম যোহন ৪:৮,১৬ (১৭) ১ম যোহন ৪:৯-১০ (১৮) যোহন ৩:১৬ (১৯) ১ম যোহন ১:৫ (২০) ২য় করিন্থীয় ৫:২১ (২১) যিশাইয় ৫৩:৬ (২২) বিলাপ ৩:৩৭ (২৩) যিশাইয় ৪৬:১০ (২৪) গীতসংহিতা ৩৩:১১ (২৫) হিতোপদেশ ১৯:২১ (২৬) মথি ৬:১০ (২৭) যিরমিয় ২৩:২০ (২৮) প্রকাশিত বাক্য ২১:৩-৫ (২৯) ইফিষীয় ২:১০ (৩০) হিতোপদেশ ৩:৬ (৩১) গালাতীয় ৫:২২-২৩ (৩২) যোহন ১০:১০ (৩৩) যোহন ৬:৩৫ (৩৪) হিতোপদেশ ৮:১৭ (৩৫) মথি ৭:৭ (৩৬) যোহন ৬:৪০ (৩৭) প্রকাশিত বাক্য ৭:৯ (৩৮) প্রকাশিত বাক্য ৩:২০


এই প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More