×
অনুসন্ধান
EveryBengaliStudent.com
জীবন এবং ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নগুলি
 আবিস্কার করার জন্য নিরাপদ স্থান
ঈশ্বরকে জানা

ঈশ্বরের সাথে আপনার কোন দিক দিয়ে মিল আছে

WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More PDF

আপনি যদি কখনও মানুষের কথোপকথন শুনে থাকেন, তাহলে আপনি তখনই কিছু একটা পর্যবেক্ষণ করবেন: মানুষ কোন কিছুর সাথে মিল থাকার সন্ধান করে। ধরে নিন যে দুজন অপরিচিত ব্যক্তি একটি বিমানের ভেতর একজন আরেকজনের মুখোমুখি হয়ে বসে আছে। তাদের মধ্যে হয়ত এমন কথোপকথন হতে পারে:

‘‘উফ, এই বিমানগুলোও না, আমার আর বিমানে চড়তে ভাললাগে না!’’

‘‘আমারও। আমি ব্যবসায়ের কাজের জন্য ভ্রমণ করে থাকি, কিন্তু আমি কখনই এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারি না।’’

‘‘ও, আপনি কি তাহলে ব্যবসায়ের কাজে বাল্টিমোর যাচ্ছেন?’’

‘‘না, আমার সেখানে আমার পরিবার আছে। আমি আমার কয়েকজন আত্নীয়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।’’

‘‘আমারও সেখানে কয়েকজন আত্নীয়-স্বজন আছে। আপনি কি বাল্টিমোরেই বেড়ে উঠেছেন?’’

‘‘হ্যাঁ, আমি সেখানেই বেড়ে উঠেছি।’’

‘‘ও, আচ্ছা, আমিও সেখানেই বেড়ে উঠেছি।’’

যখন আমরা কথোপকথন করি, তখন আমরা আমাদের মধ্যে মিল আছে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি। আমরা আমাদের মধ্যে যেগুলোর মিল আছে সেগুলোর অনুসন্ধান করি। যখন মানুষ এই মিল খুঁজে পায় নাম তখন তাদের ‘‘আর কথা বলার মত কোন বিষয়ই থাকে না’’ বা তারা আবহাওয়া নিয়ে কথা বলতে শুরু করে (যেটা আবশ্যকীয় একটি মিল)।

আমাদের সাথে মানুষের যেসব বিষয়ে মিল থাকে সেসব বিষয় নিয়ে কথা বলাটা অনেক সহজ। মানুষ হিসেবে, আমরা একে অন্যের সাথে কোন পাথর বা গাছের চেয়ে অনেক ভাল সম্পর্ক তৈরী করতে পারি। কারণ আমাদের সাথে গাছের বিশাল এক পার্থক্য রয়েছে, এটির সাথে আমাদের সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন কিছুই এখানে নেই। এটাকে হয়ত অর্থহীন মনে হতে পারে, কিন্তু এটা আমাদের জীবনের সুস্পষ্ট একটি ঘটনা।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে: আমরা যখন অন্যের সাথে আমাদের সাদৃশ্যতা যত বেশি বলব ততই সেই ব্যক্তির সাথে সাদৃ্শ্যতা আর ভাল হয়। এমনকি যদিও আমরা গাছের সাথে আমাদের কোন সামঞ্জস্যতা দেখি না, কিন্তু আমরা পশুদের (পোষা প্রাণী) ক্ষেত্রে তা সম্পর্কযুক্ত করতে পারি। কেন? কারণ গাছের চাইতে পশুরা মানুষের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুটি পক্ষের মধ্যে যত বেশি সামঞ্জস্যতা থাকবে ততবেশি তাদের মধ্যে সাদৃশ্যতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

হয়ত এই ঘটনা এমন কিছু বর্ণনা করে যা আমরা বাইবেলের প্রথম পুস্তকে দেখতে পাই। সেখানে আমরা দেখতে পাই যে ঈশ্বর মানবজাতিকে ‘‘আপন প্রতিমূর্তিতে’’ সৃষ্টি করলেন। এই পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া কোন কিছুই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট নয়।

ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে তৈরী হওয়ার মানে কী? হয়ত এটা এমন একটি উপায় যেটা আমাদেরকে তাঁর কিছু গুণাগুণ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। যদিও নি:সন্দেহে আমরা এটা ভেবে যুক্তিসম্পন্ন বলে মনে করতে পারি, অনুভব করতে পারি, বক্তব্যের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি, সৃষ্টি করতে পারি, কল্পনা করতে পারি, গভীরভাবে কষ্ট পেতে পারি, আনন্দ করতে পারি, হাসিখুশি দ্বারা অন্যকে বোঝতে পারি। আর, ঈশ্বরের মতই, আমাদের আলাদা একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে—একটি আত্না। আর আমাদের আত্ন-চেতনা আছে—‘‘আমি মনে করি; তাই আমি আছি।’’

বিভিন্ন উপায়ে, এটা দেখা যাচ্ছে যে, ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর অসীম স্ব সীমাবদ্ধ সংস্করণ হিসেবে তৈরি করেছেন। এটা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের বলে যে: নামের মাধ্যমে, তিনি আমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। ধরে নিন: আপনি আপনার অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো এবং ক্ষমতা এবং আবেগ এবং কল্পনাশক্তি নিয়ে বিজ্ঞাপনের কোন তক্তার উপর দিয়ে হেঁটে ঈশ্বরের গুণাবলী এবং স্বত্ত্বার ক্ষুদ্র উদাহারণ হিসেবে চিত্রিত করছেন। তিনি তাঁর সাথে সাদৃশ্যতা বজায় রেখে আমাদেরকে তৈরী করেছেন, আর আপনি নিজেই সেটার প্রমাণ। আসলে প্রত্যেক মানুষই সেই প্রমাণ। এমনকি যদিও প্রত্যেকটি মানুষই তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জন্য অনন্য (যেটা নিজে থেকেই একটি অলৌকিক বিষয়), আমরা সকলেই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্টি হয়েছি।

আর মানুষ হওয়ার অর্থ হল আমরা ঈশ্বরের প্রশংসা করার জন্য অনন্য অবস্থানে রয়েছি। আপনি শেষ কবে কোন দেশের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং শেষ কবে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য গবাদি পশু দেখেছিলেন? কার্টুন ছাড়া হয়ত কোথাও পশুদেরকে আরাধনা করতে দেখা যায় না। কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসের প্রতিটি অংশে, এবং বিশ্বের প্রতিটি অংশে, মানুষেরা একধরনের আরাধনা করেছে বা অন্য যেকোন ধরনের আরাধনা করেছে। এটা হয়ত ঈশ্বর নিজ প্রতিমূর্তিতে, তাঁর মত করেই আমাদের সৃষ্টি করেছেন সেজন্য হয়েছে। আমাদের ভেতরে ভেতরে জানি যে এটার মধ্যে আত্নিক কোন উপকরণ রয়েছে, আর এটা যে ঈশ্বর অবশ্যই এর সাথে জড়িত আছেন।

ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আরও জানতে, দয়া করে এটি দেখুন, ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরকে জানা অথবা বাইবেলের ‘‘যোহন’’ নামক অংশটি পড়ুন।

 আমার একটি প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে…
 কিভাবে ঈশ্বরের সাথে একটা সম্পর্ক শুরু করেন

এই প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More