×
অনুসন্ধান
EveryBengaliStudent.com
জীবন এবং ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নগুলি
 আবিস্কার করার জন্য নিরাপদ স্থান
সম্পর্কগুলি

পর্নোগ্রাফি নিয়ে একাকী সংগ্রাম

একজন ছাত্রী তার পর্নোগ্রাফি নিয়ে আসক্তির বিষয়টি নিয়ে বলছে।

WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More PDF

জেনিফার এম.

আমি ১৮ বছর বয়সী একজন স্বাধীনচেতা এবং মাঝে মাঝে কিছুটা লাজুক ব্যক্তি। আমি আমার সারাজীবনই গীর্জায় বেড়ে উঠেছি। যখন নতুন গড়ে ওঠা আরাধানার দলে আমি ড্রামস বাজানোর জন্য আমান্ত্রণ পেলাম তখন আমি গীর্জায় আমার অবস্থান খুঁজে পেলাম। আমার জীবনটা বেশ ভালই চলছিল, কিন্তু আমি শূন্যতা অনুভব করতাম।

পরবর্তীতে উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালনি সময়ে সেই শূন্যতাটি বৃদ্ধি পাবার সময়, এমন কিছু খুঁজে পেল যেটা আমাকে পরিতৃপ্ত করত। প্রথমে আমি লোভনীয় কাজগুলো করতাম, আমার অভদ্র কাকার কাছ থেকে আমি সিগারেট চুরি করতাম। কিন্তু এটা আমার ভেতরের সেই শূন্যতাকে দূর করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। আমি এত সহজে হার মানতে নারাজ। আমি হলাম, জেনিফার, এখন পর্যন্ত আমি শক্ত-সমর্থ আছি এবং আমি যা চাই তা আমি পেয়েই ছাড়ব। একজন কম্পিউটার শিক্ষক হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ কম্পিউটারে যা সম্বন্ধে কোন সূত্রই জানে না আমি সেগুলোর সব কিছুই দেখতে পারতাম। আমি যা চাচ্ছিলাম তা খুঁজে পেয়েছিলাম, আর আমি যা চাচ্ছিলাম তা খুঁজে পেয়েছিলাম। পর্নোগ্রাফি।

আপনি জানার আগেই আমি এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম... এমনকি, আমি তখনও কুমারী ছিলাম আর এখনও আছি। এটা এমন কিছু ছিল যেটার মাধ্যমে আমি আমার জীবনের শূন্যতাকে পূরণ করতে চেয়েছিলাম। যখন আমার মন খারাপ থাকত, যখন আমার একটা খারাপ দিন যেত, তখন আমি সাধারনভাবে আমার ঘরে গিয়ে, দরজা বন্ধ করে দিতাম এবং নিজেকে ভাললাগানোর জন্য এটা দেখতাম। আর এটা বিনামূল্যে ছিল। এর কোন ক্ষতি ছিল না। কেউ জানতেও পারত না। প্রতিবার যখন আমি ইন্টারনেটে প্রবেশ করতাম, ততবারই আমার চাহিদা কখনই পূরণ হতো না। এটা ছিল মাদকের আসক্তির মত, যেটা একটার পর আরও বেশি নেশাযুক্ত হতেই থাকত, আমি আমার চাহিদা পূরণের জন্য আরও গভীর উৎসগুলোতে প্রবেশ করতাম। যদি ঈশ্বর আমাকে এর মধ্যে সাহায্য না করতেন তাহলে এটাকে কখনই ত্যাগ করা যেত না।

আমি আসলে জানি না কখন, কেন, বা কীভাবে (ঈশ্বরের অতি প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াও), কিন্তু একদিন আমার হঠাৎ উপলব্ধি হল যে আমার জীবনটার কতটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। আমার বাবা ধূমপান করতেন, আর তিনি ঠান্ডাজনিত কারণে ধূমপান করা ত্যাগ করেন। তিনি এটা পর্যায়ক্রমিকভাবে ত্যাগ করেন নি। আমি শুধু জানতাম আমার এটাই করতে হবে। আমি বুঝতে পারলাম যে শুধুমাত্র ঈশ্বরই আমার শূন্যতা পূরণ করতে পারেন। আমি আমার কম্পিউটার থেকে সবকিছু মুছে ফেললাম। সকল ওয়েব পেজ, সব ভিডিও, সব পাসওয়ার্ড, সবকিছু যা আমাকে সেই আগের খারাপ ব্যক্তিতে পরিণত করার পথে নিয়ে যায় সেই সবকিছুই আমি মুছে ফেললাম। ক্ষতিকারক কৌতূহল খুব সহজেই আসক্তিতে পরিণত হয়।

এর পর পরই আমি খ্রীষ্টিয় নিরব ধ্যানের জন্য অবকাশে গেলাম। আমি খুবই উতলা ছিলাম, কিন্তু আমি এর জীবন পরিবর্তনীয় প্রভাবের বিষয়টি আশা করিনি। সেই সপ্তাহিক অবকাশেই আমি যীশু খ্রীষ্টের কাছে আমার জীবন সঁপে দিয়েছি। এর মানে এই যে আমি ঈশ্বরের কাছে আরও একবার বললাম যে: আমি তোমার জন্য সম্পূর্ণভাবে এবং সম্পূর্ণরুপে বাঁচতে চাই। তুমি আমাকে যে নতুন ভালবাসা দেখিয়েছ তাতে আমি রূপান্তরিত হয় তোমার নতুন একটি সৃষ্টি হতে চাই ( ২য় করিন্থীয় ৫:১৭)। আমি জানি যে আমি অনেক খারাপ কাজ করেছি, আর এমনকি আমি যে ধার্মিকতার কাজ করি সেটা তোমার যোগ্য নয় (যিশাইয় ৬৪:৬)। তাই আজকে থেকে, আমি ঈশ্বরের কাছে এটা বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম যে এই জগৎ বা আমি যেটা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি সেটা চেয়ে তিনি যেটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এবং আমি যা করি তাতে যেন তাঁর গৌরব প্রকাশ পায়, তিনি আমাকে দিয়ে যা করাতে চান তাই যেন করি।

সেই নিরব ধ্যানে আমি যে ভালবাসার অভিজ্ঞতা পেয়েছি তা আমার মন জয় করে নিয়েছিল। আমি জানতাম যে ঈশ্বর আমাকে ভালবাসেন... কিন্তু তাই বলে এতটা ভালবাসেন!? আমাকে এমন সব লোকেরা ঘিরে রেখেছিল যারা আমাকে ডানে এবং বামে পরিচালনা, আমার জন্য প্রার্থনা করা, আমাকে পরামর্শ দেওয়া, আমার প্রতি তাদের যে ভালবাসা আছে তা প্রকাশ করার মত সেবা কাজগুলো করত আর আমি তাদেরকে চিনতেও পারি নি। কিন্তু তারা তো আমার কাছে অপরিচিত ছিল, তাহলে কেন তারা আমাকে ভালবাসত? বাইবেল আমাদের বলে যে, ‘‘ তিনি আমাদের প্রথমে ভালবেসেছিলেন বলেই আমরা ভালবাসি।’’ ( ১ম যোহন ৪:১৯)। ঈশ্বর যে তাদেরকে ভালবাসতেন তারা সেটা উপলব্ধি করতে পারতেন বলেই তারা আমাকে ভালবাসতেন। আর এখন আমার ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসাকে আমি উপলব্ধি করতে পারি, আর এই ভালবাসা আমি সারা পৃথিবী মধ্যে এই ভালবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই। এই ভালবাসার কারণে, আমি আরাধনা সঙ্গীতকে এমনভাবে উপলব্ধি করেছি যেটা আমি আগে কখনও করিনি। আমি আমার পুরোনো খ্রীষ্টিয়ান বন্ধুদের ঘনিষ্ঠ হলাম এবং অনেক নতুন বন্ধুও বানালাম। সেই সপ্তাহের পর, যীশু আমার মুখে এবং আমার কাজে প্রতিফলিত হচ্ছিলেন। প্রতিদিনই আমি ঈশ্বরের গৌরব করার জন্য নতুন নতুন কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম... আমার মধ্যে আর কোন শূন্যতা ছিল না। কোন রাগ ছিল না। কোন একাকীত্ব ছিল না। কোন দু:খ ছিল না। কোন ভয় ছিল না। গীতসংহিতা ১১৯:৬২ বলে যে,‘‘ তোমার ন্যায়পূর্ণ আইন-কানুনের জন্য ধন্যবাদ দিতে আমি দুপুর রাতে উঠি ।’’

আমি এখন এমনই অনুভব করছি। আমার মন চাইছে যে ঈশ্বর আমার এবং আমার বন্ধুদের জীবনে যে পরিবর্তন এনেছেন সেজন্য আমি ঈশ্বরের গৌরব এবং আরাধনা করার জন্য মধ্য রাতে উঠি। ঈশ্বরের কাছে পরিবর্তিত হওয়ার জন্য আপনি যুবক না বৃদ্ধ সেটা প্রাধান্য পায় না। ‘‘তুমি যুবক বলে কেউ যেন তোমাকে তুচ্ছ না করে। কথায়, চালচলনে, ভালবাসায়, বিশ্বাসে এবং পবিত্রতায় তুমি বিশ্বাসীদের কাছে আদর্শ হও।’’ ( ১ম তীমথিয় ৪:১২)।

আজ। আজকেই আপনি নিজেকে ঈশ্বরের কাছে পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণভাবে সঁপে দিন। আপনার হারানোর কিছু নেই এবং আপনি অনন্ত জীবন পেতে পারেন। পৌল বলেন,‘‘ ঈশ্বর যা দান করেন তা আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুর মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবন।’’ যখন সারা পৃথিবী আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখনও তিনি আপনার সাথেই থাকবেন, কারণ তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। আর তিনি আপনাকে ভালবাসেন।

 আমার একটি প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে…
 কিভাবে ঈশ্বরের সাথে একটা সম্পর্ক শুরু করেন

এই প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More