×
অনুসন্ধান
EveryBengaliStudent.com
জীবন এবং ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নগুলি
 আবিস্কার করার জন্য নিরাপদ স্থান
প্রশ্ন ও উত্তর

পবিত্র আত্না কে?

WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More PDF

প্রশ্ন: ‘‘পবিত্র আত্না কী বা কে? আমি আপনাদের ওয়েবসা্ইটে বেশ কয়েকবার এই নাম/শব্দটি দেখেছি।’’

আমাদের উত্তর: পবিত্র আত্না হলেন একজন সত্যিকার ব্যক্তি যিনি যীশুর মৃত্যুর পর স্বর্গারোহণের আগে তাঁর সত্যিকারের শিষ্যদের মধ্যে বসবাস করতেন। যীশু তাঁর শিষ্যদেরকে বলেছেলেন…

‘‘আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের কাছে চিরকাল থাকবার জন্য আর একজন সাহায্যকারীকে পাঠিয়ে দেবেন।সেই সাহায্যকারীই সত্যের আত্মা। জগতের লোকেরা তাঁকে গ্রহণ করতে পারে না, কারণ তারা তাঁকে দেখতে পায় না এবং তাঁকে জানেও না। তোমরা কিন্তু তাঁকে জান, কারণ তিনি তোমাদের সংগে সংগে থাকেন আর তোমাদের অন্তরে বাস করবেন। “আমি তোমাদের অনাথ অবস্থায় রেখে যাব না; আমি তোমাদের কাছে আসব।অল্প সময় পরে জগতের লোকেরা আর আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাবে।’’

পবিত্র আজ্ঞা অনির্দিষ্ট কিছু, স্বর্গীয় ছায়া, বা নৈর্ব্যক্তিক কোন শক্তিও নয়। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি পিতা এবং পুত্রের সমকক্ষ। তিনি পবিত্র ত্রিত্বের তৃতীয় সদস্য। যীশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন…

“স্বর্গের ও পৃথিবীর সমস্ত ক্ষমতা আমাকে দেওয়া হয়েছে। এইজন্য তোমরা গিয়ে সমস্ত জাতির লোকদের আমার শিষ্য কর। পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে তাদের বাপ্তিস্ম দাও। আমি তোমাদের যে সব আদেশ দিয়েছি তা পালন করতে তাদের শিক্ষা দাও। দেখ, যুগের শেষ পর্যন্ত সব সময় আমি তোমাদের সংগে সংগে আছি।”

ঈশ্বরই হলেন পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আজ্ঞা। আর সকল ঐশ্বরিক গুণগুলো পিতা এবং পুত্রের মধ্যে যেভাবে আরোপিত হয়েছে, তেমনি তা পবিত্র আত্নার উপরও আরোপিত হয়েছে। যখন একজন ব্যক্তি যীশু খ্রীষ্টকে বিশ্বাস এবং গ্রহণ করে নতুন জন্ম লাভ করে, তখন ঈশ্বর পবিত্র আত্না মধ্য দিয়ে সেই ব্যক্তির মধ্যে বাস করেন। পবিত্র আত্নার জ্ঞান, আবেগ, এবং ইচ্ছাশক্তি আছে।

পবিত্র আত্নার মূখ্য ভূমিকাটি হল যে তিনি যীশু খ্রীষ্টের ‘‘সাক্ষ্য’’ বহন করেন। তিনি লোকদের অন্তরে যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে সত্য বলেন। পবিত্র আত্না একজন খ্রীষ্টিয়ানের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা তুলে ধরেন এবং একজন খ্রীষ্টিয়ানের কাছে ঈশ্বরের সত্যকে প্রকাশ করেন। যীশু তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন…

‘‘সেই সাহায্যকারী, অর্থাৎ পবিত্র আত্মা যাঁকে পিতা আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনিই সব বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দেবেন, আর আমি তোমাদের যা কিছু বলেছি সেই সব তোমাদের মনে করিয়ে দেবেন।’’

‘‘সেই সত্যের আত্মা যখন আসবেন তখন তিনি তোমাদের পথ দেখিয়ে পূর্ণ সত্যে নিয়ে যাবেন। তিনি নিজ থেকে কথা বলবেন না, কিন্তু যা কিছু শোনেন তা-ই বলবেন, আর যা কিছু ঘটবে তাও তিনি তোমাদের জানাবেন।’’১০

পবিত্র আত্নাকে তাদের অন্তরেই দেওয়া হয়েছিল যারা যীশুকে বিশ্বাস করত, যাতে করে তারা তাদের প্রতি ঈশ্বরের পরিকল্পিত বিশ্বাসী হিসেবে জীবন পরিচালনা করতে পারে। যেখানে আমরা নিজে কিছুই করতে পারি না, সেখানে পবিত্র আত্না আমাদের জীবনে ভালবাসা, আনন্দ, শান্তি, দয়া, ধার্মিকতা, ন্যায্যতা এবং আত্না-সংযমপূর্ণ জীবন দিতে পারেন।১১ ভালবাসাপূর্ণ, ধৈর্য্যশীলতা, দয়াশীলতা চেষ্টা করার জন্য ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁর উপর নির্ভরশীল হই। এজন্য খ্রীষ্টিয়ানদেরকে পবিত্র আত্নার অধীনে চলাফেরার কথা বলা হয়েছে এবং আত্নায় পূর্ণ হতে বলা হয়েছে।১২ আর পবিত্র আত্না খ্রীষ্টভক্তদেরকে তাদের মন্ডলীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতা দান করনে যেই আত্নিক বৃদ্ধিটি খ্রীষ্টভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।১৩

পবিত্র আত্না অবিশ্বাসীদের মধ্যেও কাজ করেন। তিনি লোকদের হৃদয়ে তাদের পাপ সম্পর্কে অনুতপ্ত হতে সাহায্য করে—তাদেরকে বুঝতে সাহায্য করে যে তাদের ঈশ্বরের ক্ষমার কতটা প্রয়োজন রয়েছে, যীশু কতটা ধার্মিক ছিলেন—তিনি আমাদের বদলে আমাদেরই পাপের জন্য মরেছেন; এবং তাদের বুঝতে সাহায্য করেন যে যারা ঈশ্বরকে জানে না তাদের জন্য শেষ বিচারের দিনে কি অপেক্ষা করছে।১৪ পবিত্র আত্না আমদের হৃদয়ে এবং চিন্তায় অনুতাপ এবং নিজের জীবনে ঈশ্বরের ক্ষমা পাবার জন্য তাগিদ দেন।

 আমার একটি প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে…
 কিভাবে ঈশ্বরের সাথে একটা সম্পর্ক শুরু করেন

পাদটীকাসমূহ: (১) প্রেরিত অধ্যায় ২ (২) যোহন ১৪:১৬-১৮ (৩) মথি ২৮:১৮-২০ (৪) যোহন ১:১২-১৩; যোহন ৩:৩-২১ (৫) ১ম করিন্থীয় ৩:১৬ (৬) ১ম করিন্থীয় ২:১১; রোমান ১৫:৩০; ১ম করিন্থীয় ১২:১১ (৭) যোহন ১৫:২৬,১৬:১৪ (৮) ১ম করিন্থীয় ২:৯-১৪ (৯) যোহন ১৪:২৬ (১০) যোহন ১৬:২৬ (১০) যোহন ১৬:১৩ (১১) গালাতীয় ৫:২২-২৩ (১২) গালাতীয় ৫:২৫; ইফিষীয় ৫:১৮ (১৩) রোমীয় ১২; ১ম করিন্থীয় ১২; ইফিষীয় ৪ (১৪) যোহন ১৬:৮-১১


এই প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More