×
অনুসন্ধান
EveryBengaliStudent.com
জীবন এবং ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নগুলি
 আবিস্কার করার জন্য নিরাপদ স্থান
প্রশ্ন ও উত্তর

শয়তান কে?

শয়তানের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী। আসলে সে কে? আর সত্যিই কি সে আপনার জন্য হুমকিস্বরূপ?

WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More PDF

বিভিন্ন কার্টুন এবং কমিক্সে, শয়তানকে আকর্ষণীয়, মৃদু প্রলোভনকারী, ছোটখাট কোন খারাপ কাজ বা মজার জন্য আপনার পেছনে লাগছে এমন চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু আসলে বাস্তবে শয়তান আকর্ষণীয় বুদ্ধিমান ছাড়া কিছুই নয়।

শয়তান কে? সে ঈশ্বরের সমকক্ষ নয়, কারণ কেউই কখনও ঈশ্বরের সমকক্ষ হতে পারে না, তাঁর কোন প্রতিদ্বন্দী নেই। ঈশ্বর শুরু থেবেই বিদ্যমান, এবং তিনি স্বর্গদূতদের নিয়ে এখনও বিরাজমান রয়েছেন যারা তাঁরই সৃষ্টি।

শয়তান (কখনও কখনও শয়তান বা লুসিফার হিসেব পরিচিত) হল একজন স্বর্গদূত যে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। সে শুধূমাত্র ঈশ্বরেরই শত্রু নয়, বরং মানবজাতিরও শত্রু, সে তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করে, খুন করতে, ধ্বংস করতে, অথবা আমাদের দাসত্বে বন্দী করতে চায়। আমাদেরকে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে,... সতর্ক থাক। নিজেদের দমনে রাখ ও সতর্ক থাক, কারণ তোমাদের শত্রু শয়তান গর্জনকারী সিংজের মত করে কাকে খেয়ে ফেলবে তার খোঁজ করে বেড়াচ্ছে।’’

ঈশ্বরের ক্ষমতার কাছে শয়তানের ক্ষমতা হাস্যকর। তবুও, সে মানুষের জন্য সত্যিই হুমকিস্বরূপ, আর তার একজন ব্যক্তির জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যাবার যথেষ্ট ক্ষমতা আছে।

শয়তানের একটি মৌলিক কৌশল রয়েছে: আমাদের সাথে প্র্রতারণা করা। সে সম্পূর্ণ জাতি, বিশ্ব এবং প্রত্যেক ব্যক্তির সাথেই প্রতারণা করতে চায়। সে সত্যকে এক মোচড়ে বিকৃত করে এবং তার মিথ্যাচারে যথেষ্ট শক্তি রয়েছে।

ড. নেইল অ্যান্ডারসন একটি চমৎকার পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন বাইবেল শয়তানেকে তিনটি উপায়ে বর্ণনা করে:
      - প্রলোভনকারী
      - অভিযোগকারী
      - সকল মিথ্যচারের স্রষ্টা

ড. অ্যান্ডারসন বলেছেন, ‘‘যদি আমি আপনাকে প্রলোভন দেখাতাম, তাহলে আপনি তা বুঝতে পারতেন। যদি আমি আপনার অভিযোগ করতাম, তাহলে আপনি তাও বুঝতে পারতেন। কিন্তু আমি যদি আপনার সাথে প্রতারণা করতাম তাহলে সেটা আপনি বুঝতে পারতেন না। শয়তানের সকল শক্তি মিথ্যাচারের মধ্যে রয়েছে। আপনি যদি মিথ্যাচার পরিহার করতে পারেন তাহলে আপনি সেই শক্তিকেও পরাজিত করে ফেললেন।’’

কোন কোন উপায়ে শয়তান মিথ্যাচার করে?

নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।

ঈশ্বর আদম ও হবাকে বর্তমানের মানুষের মতই স্বাধীন চিন্তা এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এদোন বাগানে হয়ত শতাধিক ফলনশীল গাছ ছিল। ঈশ্বর আদম ও হবাকে শুধুমাত্র একটি নির্দেশনাই দিয়েছিলেন সেটি হল একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল না খাওয়া। এটি একটি সহজ অনুসরণযোগ্য নির্দেশনা ছিল। শুধু এই গাছের ফল খেও না যদি খাও তাহলে তোমরা মরবেই মরবে। অনেকটাই সহজ।

তবুও শয়তান হবাকে এই বলে রাজি করাল, ‘‘তখন সাপ স্ত্রীলোকটিকে বলল,‘‘কখনও না, কিছুতেই তোমরা মরবে না। ঈশ্বর জানেন, যেদিন তোমরা সেই গাছের ফল খাবে সেই দিনই তোমাদের চোখ খুলে যাবে। তাতে ভাল-মন্দের জ্ঞান পেয়ে তোমরা ঈশ্বরের মতই হয়ে উঠবে।’’

শয়তান হবার সাথে ছলনা করল যে, ঈশ্বর তাদের কাছে থেকে চমৎকার কিছু লুকিয়ে রেখেছেন, এমন একটি ফল যেটি খেলে তারা ঈশ্বরের সমকক্ষ হয়ে উঠবেন। আর এটি হলে বেশ ভালই হত, তাই না? কিন্তু সমস্যা টি হল এই কথা সত্য ছিল না। আদম এবং হবা ঈশ্বরের কথা অমান্য করে শয়তানের এই মিথ্যা কথা বিশ্বাস করল, যা তাদেরকে এক ভয়ানত পরিণতির সম্মুখীন করল। এইভাবেই শয়তান কাজ করে। সে একজন ব্যক্তির ক্ষতি করার জন্য সত্যকে মুচড়ে দেয়।

শয়তান কীভাবে ঈশ্বরকে দোষারোপ করে

শয়তানের সবচেয়ে আকাঙ্খিত জিনিসটি হল লোকদেরকে ঈশ্বরের থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। সে আপনাকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করা বা তাঁর নিন্দা করার জন্য ঈশ্বরের চরিত্র সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ জানাতে চাইবে। এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হল।

ঈশ্বর বার বার আমাদের উপর তাঁর ভালবাসা দেখান। ‘‘অশেষ ভালবাসা দিয়ে আমি তোমাদের ভালবেসেছি; অটল ভালবাসা দিয়ে আমি তোমাদের কাছে টেনেছি।’’ … আমরা যে ঈশ্বরকে ভালবেসেছিলাম তা নয়, কিন্তু তিনি আমাদের ভালবেসে তাঁর পুত্রকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন...’’ ‘‘দেখ পিতা ঈশ্বর আমাদের কত ভালবাসেন!...’’ ‘‘কারণ ঈশ্বর মানুষকে এত ভালবাসলেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করলেন, যেন যে কেউ সেই পুত্রের উপরে বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।’’

কিন্তু শয়তান কি বলে? ঈশ্বর আপনাকে ভালবাসেন না। আপনার সমস্যাগুলোর দিকেই একবার দেখুন। যদি ঈশ্বর আপনাকে ভালবাসতেন তাহলে তো আপনার এই সমস্যাগুলো থাকত না।’’ কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে, তাই না?

সকল মানুষেরই সমস্যা থাকে। এগুলো হল আমাদের জীবনেরই অংশ। শয়তান আপনাকে যে কথাটা বলে না সেটা হল যদি আপনার সাথে ঈশ্বরের একটি সম্পর্ক থাকে এবং আপনি যদি তাঁর উপর নির্ভর করেন, তাহলে তিনি আপনাকে এই সকল সমস্যাগুলোর মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু পরিচালনা দিয়ে নিয়ে যাবেন। আপনার তখন কাউকে প্রয়োজন হবে না বা আপনার নিজেরও তা সামাধান করতে হবে না।ঈশ্বর আপনাকে এই সকল সমস্যাগুলোর মধ্যেও জ্ঞান এবং সত্যিকারের শক্তি দান করতে পারেন। শুধুমাত্র তাই নয়, আমরা যখন কঠিন কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাই তখন তিনি আমাদের বলেন, ‘‘আমি তোমাদের জন্য শান্তি রেখে যাচ্ছি…’’ কেন? কারণ সেই ব্যক্তি জানেন যে তিনি ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখতে পারেন।

ঈশ্বরকে ছাড়া, একজন ব্যক্তিকে এমনভাবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে,‘‘ এই পৃথিবীতে তার কোন আশার জায়গা নেই।’’ ঈশ্বর কখনই চান না যে কোন মানুষ কখনও এরকম পরিস্থিতিতে পড়ুক।

শয়তান আপনার প্রতি কীভাবে দোষারোপ করে

শয়তান শুধু আপনাকে ঈশ্বরের পবিত্রতা থেকে দূরে নেবার জন্যই ছলনা করে না, সে আপনাকে দিয়ে ঈশ্বরের নিন্দা করাতেও চায়। শয়তান এরকমই একটা কাজ ইয়োব নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে করাতে চেয়েছিল। শয়তান বলে যদি ইয়োব কষ্ট পায়, তাহলে ইয়োব ঈশ্বরের নিন্দা করবেই, কিন্তু ইয়োব কখনই এ কাজ করে নি। শয়তান শুধু আপনাকে পতনের এবং আপনাকে দিয়ে ঈশ্বরের নিন্দা করার চেষ্টা চালায়।

কিন্তু শুধুমাত্র তাই নয়, শয়তান তার অপবাদ এবং নিন্দা আপনার দিকেও ছোঁড়ার চেষ্টা করে।

সে আপনাকে এইভাবে রাজি করাতে চায়,‘‘ঈশ্বর তোমাকে চান না। তুমি কখনই তাঁর মত পবিত্র নও। তোমার জীবনের পাপগুলো দেখ, কতশত জায়গায় তুমি ব্যর্থ হয়েছ, তুমি যেসকল কাজ কর, তোমার যে আসক্তিগুলো রয়েছে সেগুলোর থাকায় তুমি কখনও তাঁর কাছে যেতে পারবে না। ঈশ্বর কখনই তোমার মত লোকদের চান না। তুমি কখনও কিছুই করতে পারবে না।

আবারও, এসবকিছুই মিথ্যা। ঈশ্বর এই বিষয়ে খুবই স্পষ্ট যে, তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে আমাদের কারোরই গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ‘‘ভাল’’ বা ‘‘পাপমুক্ত’’ হওয়ার দরকার নেই।

যীশু শয়তানকে সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘‘‘সে প্রথম থেকেই খুনী। সে কখনও সত্যে বাস করে নি, কারণ তার মধ্যে সত্য নেই। সে যখন মিথ্যা কথা বলে তখন সে তা নিজে থেকেই বলে, কারণ সে মিথ্যাবাদী আর সমস্ত মিথ্যার জন্ম তার মধ্য থেকেই হয়েছে।’’

ঈশ্বর এবং শয়তানে মধ্যাকার দ্বন্দ্ব বেশ ব্যাপক। যীশু বলেছেন,‘‘চোর কেবল চুরি,খুন ও নষ্ট করবার উদ্দেশ্য নিয়েই আসে। আমি এসেছি যে তারা জীবন পায়, আর সেই জীবন যেন পরিপূর্ণ হয়।’’

যারা যীশুতে বিশ্বাস করে তাদেরকে যীশু বলেছেন,‘‘আমার কথামত যদি আপনারা চলেন... আপনারা সত্যকে জানতে পারবেন, আর সেই সত্যই আপনাদের মুক্ত করবে।’’১০

শয়তানের প্রতারণার সম্মুখীন হওয়ার চাইতে আপনার একটি সুযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ঈশ্বর নিজের সম্বন্ধে যা বলেছেন, আপনার জীবনের জন্য যা করেছেন, সম্পর্কগুলোর জন্য যা করেছেন সেসকল কিছুই সত্য। একদিকে যখন শয়তান চাচ্ছে আপনাকে ছলনার দাসত্বে রাখতে অন্যদিকে ঈশ্বর চান যেন আপনি সত্যের পথে ফিরে এসে মুক্ত হোন এবং বাস্তব জীবনকে উপভোগ করুন।

একজন মিথ্যাবাদী এবং অভিযোগকারী হওয়ার পাশাপাশি শয়তান তার মিথ্যাচারের মাধ্যমে লোকেদেরকে দাসত্ব ও আসক্তির দিকে প্ররোচিত করে।‘‘ ও, এগিয়ে যাও। এ কাজটি আবারও করলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। তুমি তো কাউকে কোন কষ্ট দিচ্ছ না। আর তুমি খুব ভাল বোধ করবে।’’

কীভাবে শয়তানের মোকাবিলা করা যায়

যদি আপনি ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তারপরও আপনি শয়তানের দ্বারা প্রলোভিত হতে পারেন। আপনার এখনও স্বাধীন ইচ্ছা আছে, আপনি আপনার ইচ্ছামত যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যাইহোক, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনি বুঝতে পারবন কোনটা সত্যি এবং শয়তানের মিথ্যাগুলোও বুঝতে পারবেন, নিজেকে আর অসহায় মনে হবে না, এবং আপনি বিভ্রান্ত বা ভয় পাবেন না। উপরন্তু, ঈশ্বর আপনার প্রতি তাঁর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।

আমাদেরকে বলা হয়েছে, `` মানুষের জীবনে যে সব পরীক্ষা হয়ে থাকে তা ছাড়া আর অন্য কোন পরীক্ষা তো তোমাদের উপর হয় নি। ঈশ্বর বিশ্বাসযোগ্য; সহ্যের অতিরিক্ত পরীক্ষা তিনি তোমাদের উপর হতে দেবেন না, বরং পরীক্ষার সংগে সংগে তা থেকে বের হয়ে আসবার একটা পথও তিনি করে দেবেন যেন তোমরা তা সহ্য করতে পার।’’শয়তান কে? একজন প্রলোভনকারী, অপবাদকরী এবং একজন মিথ্যুক। তার উদ্দেশ্য হল ঈশ্বরের কাছ থেকে লোকদেরকে দূরে সরিয়ে নেয়া, যাতে করে লোকেরা শুধুই শয়তানের কথাই শোনে, তার ঈশ্বরবিদ্বেষী দলে যোগদান এবং তার ধ্বংসাত্বক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে লোকদেরকে নিয়ে যেতে চায়।

ঈশ্বর আপনার সাথে সম্পর্ক তৈরী করতে চান এবং আপনাকে তাঁর ভালবাসার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে চান। ‘‘আমিই জগতের আলো। যে আমার পথে চলে সে কখনও অন্ধকারে পা ফেলবে না, বরং জীবনের আলো পাবে।’’১২

আপনি কি কখনও ঈশ্বরের সাথে এই ধরণের সম্পর্ক তৈরী করার বিষয়ে শুনেছেন? এটি ব্যাখ্যা দেয় যে: ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরকে জানা

 আমার একটি প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে…
 কিভাবে ঈশ্বরের সাথে একটা সম্পর্ক শুরু করেন

পাদটীকাসমুহ: (১) ১ম পিতর ৫:৮ (২) আদিপুস্তক ৩:৪,৫ (৩) যিরমিয় ৩১:৩ (৪) ১ম যোহন ৩:১ (৬) যোহন ৩:১৬ (৭) যোহন ৮:৪৪ (৯) যোহন ৮:৩১ (১১) ১ম করিন্থীয় ১০:১৩ (১২) যোহন ৮:১২


এই প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More