×
অনুসন্ধান
EveryBengaliStudent.com
জীবন এবং ঈশ্বর বিষয়ক প্রশ্নগুলি
 আবিস্কার করার জন্য নিরাপদ স্থান
জীবনের প্রশ্নগুলি

হেরোইন খেকে মুক্তি

আপনি হয়ত চিন্তা করতে পারেন,‘‘ আরেকটুখানি বেশি মনোবল হলেই, আমি ঠিক হয়ে যাব।’’ একটি ব্যক্তিগত কাহিনী যেটি আপনাকে দেখাবে কেন মনোবল কাজে আসে না, আর কোনটি কাজে আসে…

WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More PDF

Bটেড এন. এর লেখা

একজন মাদকাসক্তের জীবনের পূর্ণাঙ্গতা আসে হিমশীতল-ফ্রেমের মত।যেমন সেই রাতে আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম এবং আমি গাড়ির কাঁচে লাল এবং নীল আলোর জ্বলা-নেভা দেখছিলাম। যখন আমি আমার গাড়ির গতিসীমা ৯৫ থেকে কমিয়ে সাধারণভাবে থামালাম এই সময়েই আমি বুঝতে পারললাম যে আমি স্নান করার জামা এবং সবুজ মোটা কম্বলের পাজামা প্যান্ট পড়ে ছিলাম। আমি তাড়াতাড়ি করে এটা গোনা শুরু করলাম যে গত কয়েক ঘন্টায় আমি কতবার মদ্যপান করেছি, আর আমার মনে পড়ল আমার ঢিলেঢালা পকেটে আধা গ্রাম হেরোইনও ছিল এবং আমার গাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অনেক অউল্লেখযোগ্য বিক্ষিপ্ত জিনিসপত্র ছিল।

নীল রঙ্গের পোশাকধারী একজন ছেলে আমার গাড়ির জানালায় জোরে জোরে ঠকঠক করছিল। আমি আমার অর্ধেক পান করা সিগারেটটি সমতল একটি মাউন্টেন ডিউ এর বোতলে নিভিয়ে গাড়ির জানালার কাঁচ নামালাম। আমি আমার এই নেশাগ্রস্ত অবস্থার বিষয়ে কোন কথাই তাকে বললাম না। সে আমার রাতের পোশাক, সময় এবং আমার কাঁপা হাতগুলোর বিষয়ে কিছুই বলল না। সে আমাকে রাস্তায় হরিণের চলাফেরা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সে আমার বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়টি ক্ষমা করে দিল এবং কোন ধরনের ঝামেলা না করে তার ভাইব্রেন্ট ক্রুসারে ফিরে গেল। আমাকে নিশ্চয়ই মাতাল দেখার চাইতে অনেক ক্লান্ত লাগছিল।

আমি এমন একটি অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলাম যেখানে আমি নিজেকে মাতাল না ভেবে শালীনতার সাথে মদ পরিবেশন করতে পারতাম। আসলে, আমার মদ্যপানের পর সেই সময় নিজেকে প্রায় স্বাভাবিকই লাগছিল। ছেলেটির চলে যাওয়ার পর আমি শান্ত ছিলাম এব আমি যেভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলাম সেজন্য দু:খিত ছিলাম।

আসক্তি কেমন হয়? বিচ্ছেদ।

আমি একইসাথে নিজেকে পছন্দ এবং ঘৃণা করেছি; আমি নিজেকে নিয়ে ভীত ছিলাম এবং অনেকদিন ধরেই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ছিলাম যে আমি যদি একা হয়ে যাই তাহলে আমি কী করব। বেশ কয়েকবারই আমি নিজেকে রান্নাঘরে কাঁটাচামচের ড্রয়ারের সামনে নিজের হাতে ধারালো একটি ছুরির ছুঁচালো দিকটি আমার গলায় ধরে থাকতে আবিষ্কার করেছি, আর সেই সময়ে আমি কিছু একটা অনুভব করতে চাচ্ছিলাম, আমি মরতে চেয়েছিলাম কিন্তু সত্যিকার অর্থে আমি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলাম। আমি পরের দিন সকালে নিজেকে রান্নঘরের মেঝেতে একজন পরিণত মানুষের মত শুয়ে থাকতে দেখলাম যার কিনা গতকাল তার ঘুমের ঘোরে কাঁদা, ভাঙ্গা হৃদয়, কাপুরুষের মত, বন্দী এবং একদমই একা ভাবা এমন অনুভূতি ছিল।

-আমি কয়েকদিন নিজেকে পার্টির মধ্যে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছি, যেখানে আমি নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য জনাকীর্ণ কক্ষের মধ্যে নতুন কয়েকজনের সাথে পরিচিত হব সে বিষয়ে সর্বদাই আশাবাদী ছিলাম। আমি সামাজিক মেশার কম থাকার কারণে, জোর করে সেই কথোপকথনের প্রচেষ্টাটি আমার কাছে ক্লান্তিকর ছিল। দশ মিনিট ধরে এই কৃত্রিম অভিনয় করতে থাকলাম, তারপর বাইরে যাবার ভান করে একটি সিগারেট ধরালাম এবং নিজের গাড়িতে করে সেখান থেকে চলে গেলাম। এর প্রথম কয়েক বছর, আমি কোথায় গিয়েছিলাম তার খোঁজ নেবার জন্য আমার বন্ধুরা ফোন দিত, কিন্তু একদিন হঠাr করে এই ফোন আসার বন্ধ হয়ে গেল।

সিনেমাগুলোতে যখন কোন বিদেশি ব্যক্তি বিছানায় বা কোন সোফায় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তারা কীভাবে সেখানে ছিল সেটা মনে করতে না পারার বিষয়টি বেশ মজার। আমি ভুল কোন বিল্ডিং এর সামনে আমার এসইউভি গাড়ি চালকের সিটে সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করার বিষয়টির সম্পর্কে তেমন শুনি নি। আমি কখনও দাগযুক্ত কর্পেটের মেঝে থেকে উঠে নিজের বাড়িতে যাবার রাস্তা খুঁজে বের করার জন্য এতটুকুও হাসি নি।

আমি আমার এপার্টমেন্টেই থাকতে পছন্দ করতাম, শুধুমাত্র সিগারেট কেনা, মদ্যপান বা নেশা করার জন্যই এপার্টমেন্ট থেকে বের হতাম। আমি এভাবেই নিরাপদবোধ করতাম। যদি আমি কাউকে মেরে ফেলি এই বিষয়ে আমার দুশ্চিন্তা করতে হতো না। তাই আমি ঘটনাতীতভাবে নিজেকে ঘরের মধ্যে থাকার জন্য মনস্থীর করি। আমি দরজা বন্ধ করি এবং বেশ কয়েকদিনের জন্য জানালাগুলোও বন্ধ করে দিলাম। যাতে করে এটা নিশ্চিত হয় যে, বিচ্ছিন্নতা সামগ্রিক পাগলামোরই একটি অংশ।

কোন আসক্তির মূল কারণটি কি?

কোন নেশাগ্রস্ত বা মদ্যপায়ীর সাথে কথা বলা (আমার মতে) একজন বাচ্চার সাথে কথা বলার মতই। সেই ব্যক্তিটি শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও, তাদের মানসিক পরিপক্কতা ভাসাম্যহীন থাকে। আমি লোকদেরকে জীবনের দু:খ-কষ্ট এবং ঈশ্বরের ক্রোধ সম্পর্কে দীর্ঘ এবং আবেগের সহিত মনস্তাস্তিক বিষয়সমূহ বলতাম। আমার বক্তব্যগুলো যতবেশি দীর্ঘ এবং মনমরা হয়েছে ততই আমার শ্রোতার সংখ্যা কমে গিয়েছে।

রাতগুলো ছিল আমার স্বাচ্ছন্দ্যবোধের জায়গা, এটা ছিল আমার এমন একটি বিরতি যে সময়ে আমি ইচ্ছেমত মদ্যপান করতে পারতাম, েএবং আমার শরীর যাতে স্বস্তি পায় সেজন্য কোন কিছু গিলে ফেলা, নাক ঝাড়া, ধূমপান করা অথবা কোন বস্তুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা.. আমি জানি না কোনটি আমাকে স্বস্তি দিত। মদ্যপান এবং এককালীন উদ্দেশ্যকেন্দ্রিক হওয়া। এটি স্বাধীনতা, স্পষ্টতা, মনের শান্তি, িএবং চপলতা এনেছিল। তাহলে কখন এই সমাধানটিই সমস্যায় রূপান্তরিত হল? আমার মুক্তির উপায়টি শ্লেষপূর্ণভাবে আমার কারাগারে রূপ নিয়েছিল।

হেরোইনের কূপ্রভাব

আমি ঈশ্বরের কাছে কাঁদাতাম, আমি তাঁর কাছে নিজেকে রক্ষা করার জন্য কাঁদতাম এবং রাগী হয়ে চিrকার করতাম। আমি পরের দিনটিকে সহ্য করতে পারব না বলে প্রতি রাতেই সকালের জন্য ভয় পেতাম। সকল কিছুই আমাকে ভীত করত, বেজে ওঠা ফোন, দরজার ঠকঠক্ শব্দ, স্কুল, কাজ, যাদের সাথে থাকতাম এবং সবচেয়ে বেশি নিজেকে ভয় পেতাম। আমি কী করব তা আমি কখনই জানতাম না। আমি যখন পাউরুটিতে মাখন লাগাতাম তখন খুব কষ্টে আমার নিজের গলায় ছুরি দিকে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছাকে দমন করে রাখতাম। যখন আমি কোন সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি চালাতাম তখন আমার হাতের নিয়ন্ত্রিত গাড়িটিকে ব্রিজের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা হত। আমি আমার গাড়িতে ওঠার আগে দিনের প্রথম মদ ঢালতাম এই ভেবে যে সারাদিনে আমি আরও মদ্যপান করব।

-তাই আমি চাইতাম আমি আত্নহত্যা করি; কিন্তু আমি এটাও জানতাম যে আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কতটাই না দু:খজনক হবে। আমার মৃত্যুর খবর শুনে কেউই আশ্চর্য হবে না। লোকেরা আমার সফতার চেয়ে সম্ভাবনার কথাগুলো বেশি বলবে। আমার বাবা-মা নিজেদেরকে দোষারোপ করবেন এবং তারা লজ্জা এবং আফসোস নিয়ে দিন যাপন করবেন, আর আমার ভাইয়েরা তাদের হাসি এবং সকল নির্মলমা হরাবে। আমার স্মৃতি তাদের কাছে বোঝার মত মনে হবে।

এখন সমাধানের সময়।

চিকিৎসা করানো

আমি একটি অস্পষ্ট পথে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর বিষয়গুলো নিয়ে চিকিrসাধীন অবস্থায় এই চিন্তা করছি যে আমি আমার জীবনের শেষের দেশ বছরে কি করব। সেগুলোকি বৃথাই নষ্ট হয়েছে? এই সকল ক্ষতি নিয়ে আমার এখন কী করা প্রয়োজন এবং সম্প্রতি ফেলে আসা অতীতকে পেছনে ফেলে আমি কিভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হব?

ঈশ্বর কি বলেন? যখন আমি এতটা পরিত্যক্ত ছিলাম এবং একা ছিলাম তখন তিনি কোথায় ছিলেন? আমি এক ডজন মদ্যপান করে এবং নেশাগ্রস্ত হবার প্রত্যেকটি সময়েই কি তিনি সেখানে ছিলেন? যখন আমি অচেনা কোথাও নিজেকে আবিষ্কার করেছি তখনও কি সেখানেই ছিলেন? হয়ত তিনি সেই সময়েও সেখানে উপস্থিত ছিলেন যে সময়ে সবার চলে যাবার পর আমি গরম টবে সকাল চারটার সময়ে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং পরে আমার ভেজা চুল নিয়ে জ্ঞান আসার পর দেখেছিলাম যে সেখানে কেউ আমাকে বাঁচাতে আসে নি।

ইস, আমি যদি এমন বিষয়গুলো সেই সময়ে আবিষ্কার করতে পারতাম, আমি আশ্চর্য হতাম, কেন? সেই সময় আমার মধ্যে এমন কি ছিল? আমি তো বিশ্বকে কোন কিছু করে উপকার করি নি, তাহলে ঈশ্বর কেন এমন করলেন?

চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ্ঞায় বিশ্বাস যথেষ্ট না

দুই মাসের চিকিৎসার পর আমার অবস্থার কোন উন্নতি হল না, আমি আগের থেকে আরও অবসন্ন ছিলাম। যদিও আমি ৬০ দিনের মধ্যে একবারও কোন মদ্যপান বা নেশা করি নি, আমি তখনও কিছু বিষয় নিয়ে জড়জড়িত ছিলাম। আমি একজন সাধারণ মানুষের মত কাজ করতে পারতাম না। অনন্ত আমি যখন মদ্যপান করতাম তখন আমি ভাবতাম জীবনের সকল প্রত্যাশাগুলোর থেকে কোন না কোন মুক্তি আছেই। তখন আমি অরক্ষিত অবস্থায় ছিলাম। আমার সামনে মদের গ্লাস থাকতেও আমি কোন সমাধান করতে পারি নি বা এখন ড্রেসারের লেখার উপরও সুন্দরভাবে কাটা থাকাতেও পারিনি।

-বিগত দশ বছরে বহুবার আমি হাঁটু গেড়ে, যন্ত্রণায় চিৎকার করে বলেছি, ‘‘ঈশ্বর, আমাকে সাহায্য কর!’’ আমি চেয়েছিলাম আমাকে কেউ রক্ষা করুক, আমি চেয়েছিলাম ঈশ্বর সব ঠিক করে দিক। কিন্তু আমি আমার ইচ্ছাকে কখনও ঈশ্বরের কাছে সমর্পন করি নি। তবুও চূড়ান্তভাবে, এই একটি রাতে, আমি আমার কক্ষে একা ছিলাম, আমি সততা এবং একনিষ্ঠভাবে ঈশ্বরকে ডাকতে চাইছিলাম। আমি তাঁকে বললাম আমার এই কঠিন হতাশার থেকে মুক্তি পেতে চাই, তাঁর কাছে আমার সকল নেশাগুলোকে সঁপে দিতে চাই, এবং এই সকল কিছুই আমি স্বেচ্ছায় বাস্তবায়িত করতে চাই। আমি সেই রাতে শান্তিতে ঘুমিয়েছিলাম। আমার জানামতে এটাই ছিল আমার প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ।

এই রাতের প্রার্থনা এবং অন্যান্য রাতের প্রার্থনার পার্থক্য হল একটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী বাক্যসম্পন্ন- বিশ্বাস। এমনকি আমি আমার আসক্তির সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোর মধ্যে দিয়ে যাবার সময়েও বিশ্বাস করতাম যে ঈশ্বর আমাকে এই আসক্তির বোঝা থেকে মুক্ত করতে পারেন। তবুও, আমি আমার নিজের মত করে সেই বিষয়গুলো জোর করি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি এর আগে কখনও নিজের সমস্যাগুলোকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পন করিনি এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবার সময় কখনও তাঁর পরিচালনা এবং আমার কী করা উচিত সেই বিষয়েও কখনও চাইনি। এটাই প্রথম বার যখন আমি এই বিষয়ে আশ্বাস পেয়েছিলাম যে ‘‘ঠিক আছে তাহলে, ঈশ্বর এসকল কিছু ঠিক করে দেবেন কারণ আমার ইতিহাস বলে যে আমি এগুলো ঠিক করতে পারিনি।’’

লোকেরা ভাবে যে আসক্তিকে দূর করার জন্য মনোবল প্রয়োজন। আমি জানতাম যে আমার আসক্তি ছিল আত্ননিগ্রহে, কিন্তু মদ্যপান এবং নেশা করা ছাড়া একটি জীবন কল্পনা করাও আমার জন্য অসম্ভব ছিল। এটা আমার ব্যর্থতা ছিল, কিন্তু এটা আমার একমাত্র বন্ধু, আমার বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। এমন একটি উভয়সংকটে থাকালীন অবস্থায় মনোবলের দ্বারা ফিরে আসাটা অসম্ভব। যদি আমি আমার নিজের উভয়সংকট নিয়ে স্পষ্ট না থাকি তাহলে আমি কীভাবে এর অস্তিত্বকে জয় করব? ঈশ্বরকে ঈশ্বরের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ দিই।

আসক্তির থেকে শক্তিশালী কি কিছু আছে?

আসক্তি হল একটি ধূ্র্ত, নিষ্ঠুর, আপাতদৃষ্টিতে অপরিবর্তনশীল একটি শক্তি, কিন্তু যদি এই আসক্তিকে ঈশ্বরের সাথে সংযুক্ত করা হয় তাহলে এটা শুধুমাত্র একটি কৌতুকের মত। আমার আসক্তির বিপরীতে সংগ্রামে শুধুমাত্র মনোবল এবং মানুষের ক্ষমতা যথেষ্ট ছিল না, কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষমতার কোন সীমা নেই। আসক্তি যে শয়তানের পছন্দের অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অস্ত্র সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই কারণ এই রোগটি আমার কল্পনায় কোন কিছু ভর করলে যেমন হয় সেরকমই একটি রোগ। আসক্তি থেকে মুক্তিলাভ করা সত্যিকার অর্থে একটি আত্নিক যুদ্ধের মত।

আমার এটি থেতে মুক্তির উপায়টি একদম সহজ—ঈশ্বরকে খোঁজা, এতে আমার খোঁজার ইচ্ছা হোক বা না হোক।

আমি (বাইবেলে) পৌলের যীশুর অনুসারী বন্ধুদের প্রতি লেখা বিষয়টি অনুসরণ করতে চেষ্টা করি: ‘‘ যা সত্যি, যা উপযুক্ত, যা সৎ, যা খাঁটি, যা সুন্দর, যা সম্মান পাবার যোগ্য, মোট কথা যা ভাল এবং প্রশংসার যোগ্য, সেই দিকে তোমরা মন দাও। তোমরা আমার কাছে যা শিখেছ ও ভাল বলে গ্রহণ করেছ এবং আমার মধ্যে যা দেখেছ ও আমার মুখে যা শুনেছ, তা-ই নিয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখ। তাতে শান্তিদাতা ঈশ্বর তোমাদের সংগে সংগে থাকবেন।’’ আমি ওসব বাজে জিনিসগুলোর গন্ধ না নিয়ে বরং এই বিষয়গুলো নিয়েই চিন্তা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব।

আমি আমার আসক্তি থেকে কি পেয়েছি

-আমার অতীত যতটাই ভয়ানক হোক না কেন, ওগুলো সত্যিই এখন অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। এখন আমি অন্যরা যাতে এই সমাধান খুঁজে পায় এবং আমার মত মুক্ত হতে পারে সে বিষয়ে দায়িত্বশীল। এগুলো হলো আমাদের একই ধরণের কিছু অভিজ্ঞতা যেগুলো আমাদেরকে বন্ধনে আবদ্ধ করে। প্রতি সপ্তাহেই যেসব নতুন লোকেরা আরোগ্যকেন্দ্রে আসেন, তারা নিজের আরোগ্যলাভের জন্য কী করবেন তা জানে না, তারা আমাকে এমন একটি ঘটনা বলে যেখানে তাদের সাম্প্রতিক অতীত তাদেরকে ঘ্রাস করেছে এবং তাদের হাতগুলোকে মদ ঢালার জন্য অথবা আরেকবার সিরিঞ্জ দিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য নিতে প্ররোচিত করেছে। তারা আমাকে অনেক দ্বিধাদ্বন্দের সাথে তাদের দারুণ লজ্জার কথা বলে এবং বিচারের জন্য তাদের ভীত চোখ থাকে। যখন তাদের বলা শেষ হয় তখন তারা আর চোখে চোখ রাখতে না পেরে; তাদের মাথা নিচু করে ফেলে। আমি মুচকি হাসি এবং সম্পূর্ণ সততার সাথে বলি যে, ‘‘হ্যাঁ, আমিও এমনটাই করেছিলাম।’’ হঠাr করেই তাদের সব লজ্জার বোঝা এবং তাদের একাকীত্ব দূর হয়ে যায়। তখন আমি তাদেরকে বলি আজকে আমার কাছে এসকল বিষয়গুলো কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। আপনার নিজের ওপর কোন আশ্চর্য কাজ দেখতে চাইলে সেটা এক বিষয়, কিন্তু স্বেচ্ছাকৃতভাবে অন্য কারও জীবনে আশ্চর্য কাজ করানোর জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে—এটি দরুণ একটি সুযোগ।

কীভাবে একজন ছিনতাইকারী, নেশাগ্রস্ত এবং মাতাল, জীবনের সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থতাসমৃদ্ধ একজন মানুষ ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে? যে কিনা দুই বছর আগে এটা চিন্তা করেছিল যে এই পৃথিবী আমাকে ছাড়া আরও উত্তম জায়গা হবে সেই আমি কিভাবে ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দেব? আসলে এই বিষয়ে আমার কোন উত্তর নেই কারণ ঈশ্বর এমন উপায়ে কাজ করেন যেটা আমি বুঝতেই পারি না। তিনি মনে হয় তাঁর ইচ্ছেমত তাঁর লোকদেরকে একেকটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। যদি তাই হয়, তাহলে আমি এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করে বেশি সময় নষ্ট করব না।

ঈশ্বরের কাছে সমর্পিত হওয়া এবং আমার আত্নসংযমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের ছয় মাসের মধ্যে, আমি আবারও স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম এবং দ্রুতই ল্যাটিন ভাষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলাম এবং যেই কলেজ জীবনের বিষয়টি আমি কখনও কল্পনাও করিনি সেই কলেজের অভিজ্ঞতা আমি লাভ করলাম। সেই রাতে আমি আমার হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার পর তিন বছর কেটে গেছে আর তারপর থেকে আমি কখনও নিরাশ হই নি। আমার জীবন শুধু ‘‘ভাল’’ই চলছে না। এটি আসাধারণভাবে ভাল চলছে। এটি এমন নয় যে আমার কাছে কোটি কোটি টাকা আছে, জনপ্রিয়তা, সবাই ভাবে আমি মহr একজন ব্যক্তিত্ব, আর পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যা আমি করতে পারব না আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি তা হল প্রতিদিন সকালে আমি আমার সকল ইচ্ছাগুলোকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পিত করি এবং তাঁর ইচ্ছা কি সেটা প্রতি ইতিবাচক হই, তাঁর কাছে অনুরোধ জানাই যে আমার মধ্য দিয়ে যেন তিনি কাজ করেন এবং এটি এমন একটি প্রার্থনা যেটি তিনি কখনও প্রত্যাখ্যান করেন না। যখন আমি সেই সুযোগগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকব, তখন সেগুলো সব জায়াগাই থাকবে।

আমি ঈশ্বর সম্বন্ধে এটাই জানি। তিনি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিগুলোকে সামলে নিয়ে সেগুলোকে চমrকার কিছুতে পরিণত করে পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করেন।

 আমার একটা প্রশ্ন আছে…
 কিভাবে ঈশ্বরের সাথে একটা সম্পর্ক শুরু করেন

পাদটীকাসমূহ: (১) ফিলিপীয় ৪:৮,৯


এই প্রবন্ধটি শেয়ার করুন
WhatsApp Share Facebook Share Twitter Share Share by Email More